দাইয়্যুস নিয়ে অসম্ভব সুন্দর লেখা..

"দাইয়্যুস" নিয়ে অসম্ভব সুন্দর লেখা..
যখন থেকে মনে হলো আমার জন্য আমার বাবা,ভাই,স্বামীকে কেয়ামতের দিন দাইয়্যুস হিসেবে গণ্য করা হবে,তখন মনের ভেতর ভয় হতে শুরু করলো।তাদেরকে তো আমি ভালবাসি,আর যদি সত্যিই ভালবাসি অবশ্যই আমি চাইব মৃত্যুর পর তারা জান্নাতে থাকুক,ভাল থাকুক। ভালবাসা তো শুধু মুখের কথা নয়,কাজেও দেখাতে হয়।
*এখন বলি দাইয়্যুস অর্থ কী?
দাইয়্যুস শব্দটার সাথে আমরা জেনারেল লাইনে পড়ুয়া ছাত্রীরা খুব কম পরিচিত
দাইয়ূস হচ্ছে এমন এক হতভাগা, যাকে জান্নাত থেকে লাল কার্ড তো দেখানোই হয়েছে সাথে আজীবন বহিষ্কারও করা হয়েছে।
কে সেই অভাগা?
যে তার স্ত্রী, মেয়ে এবং তার অধিনস্ত নারীদের পর্দার ব্যপারে সচেতন নয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন-" যে ব্যক্তি তার পরিবারের মধ্যে অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেয় সেই ব্যক্তি দাইয়্যুস হিসেবে গণ্য"। [মুসনাদে আহমাদ হা/৫৮৩৯]
পর্দা মানে শরিয়াহ সম্মত "হিজাব+নিকাব",রঙের বাহার নয়।
এই ফিল্টারে কত লক্ষ-কোটি নামাজী, হাজী সাহেব, লাট সাহেব, তুমুল জনপ্রিয় নেতা, তারকা আর সাদা-মনের মানুষ যে আটকে যাবে, তার ইয়ত্তা নেই!
আপনার মাহরাম যতই আমলদার হোন, নিজের অধীনস্থ নারীদের পর্দাহীনতার কারণে সে আটকে যাবে। এ এমন এক ধমকি যা চোর, ডাকাতদেরও দেয়া হয় নি, যদিও এগুলোও কবিরা গুনাহ।
নিজের মা,মেয়ে, বোন,বউ,ছেলের বউ (যদি অধীনস্থ হয়) এদের ক্ষেত্রে বারবার বুঝানোর পরও তারা না মানলে হয়ত কিছু ওজর পেতে মাহরামগণ। যেহেতু, এরা আপনার অধীনস্থ হওয়ার পিছনে আপনার ইচ্ছাশক্তির কোন হাত ছিল না।
তবে, স্ত্রীর ক্ষেত্রে কিন্তু কোন ওজরই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ তাকে আপনার অধীনস্থ করার ক্ষেত্রে আপনার নিজ ইচ্ছাশক্তির ভূমিকা ছিল। আপনার শুরুতেই উচিত ছিল দ্বীনদারিতা দেখে বিয়ে করা। এটি না মেনে আপনি এক ভুল করেছেন, হয়ত ভেবেছেন বিয়ের পর ঠিক করে নিব।
বিয়ের পরও সে না বুঝলে সেক্ষেত্রে তাকে নিজ অধীনস্থের বাইরে নিতে তালাক দেয়ারও অপশন আছে। সুতরাং, ওজর কোন ভাবেই পাচ্ছেন না।[এখানে তালাক উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে]
হয়ত সে পর্দা করে কিন্তু বিশেষ কোন অনুষ্ঠানের সময় বায়না করে, একদিনই তো। আপনিও মন রক্ষার্থে রাজি হয়ে গেলেন। ভাবলেন, একদিনই তো। এই একদিনের কারণেও আপনি হাশরে আটকে যেতে পারেন।
ভাই আমার, একদিনের জন্যও কিভাবে আপনি নিজ স্ত্রীকে হাজারো চোখের লোলুপ আকষর্ণে ছেড়ে দিতে পারেন!! হাজারো চোখের যিনার উপকরণ বানাতে পারেন?
যতই শালীন পোশাক পড়ে থাকুক, ইসলামিক পর্দার মধ্যে নেই মানেই, সে অশালীন, বেপর্দা.. আর আপনি দাইয়্যুস। সেটা একদিনের জন্য হলেও।
সময় থাকতে সাবধান হওয়া উচিত। নিজের গাইরতকে জাগিয়ে তুলুন। সত্যিকারের পুরুষ হোন। দুনিয়ায় নিজের আত্মমর্যাদাকে এভাবে বিসর্জন দিয়ে, জাহান্নামের টিকিট হাতে নিয়ে হাশরে কিভাবে দাড়াবেন!!!
মনে রাখবেন, হাশরের ঐ সময় কেউ কারও "প্রাণপ্রিয়" থাকবে না, সবাই হয়ে যাবে একে অপরের প্রতিপক্ষ।
আরো কিছু কথাঃ একজন নারী যদি বেপর্দায় চলে তাহলে সে চার জন পুরুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে
১. তার বাবা
২. তার বড় ভাই
৩. তার স্বামী
৪. তার বড় ছেলে (আল হাদিস)
এমন অনেক ভাইয়েরা আছেন যারা স্ত্রীকে পরিবারের ননমাহরামদের সামনে পর্দা করে চলতে নিষেধ করেন।বলেন যে তারা তো আমার পরিবার,তোমার দিকে কুনজর দিবে না।না বুঝে দিনশেষে কিন্তু ভাইয়েরাও গুনাহের ভাগিদার হচ্ছেন।
এই নিয়ে হাদিসে আছে- "হারাম কাজে স্বামীর আদেশ পালন জায়েজ নেই"।
হাদিসে আছে-"আল্লাহের অবাধ্যতায় কারোর আনুগত্য নেই" (সহী মুসলিম ইঃফাঃ নং ৪৬৩১)
সর্বশেষ কথা আমি আমার পরিবারের মাহরামকে দাইয়্যুস হিসেবে পরিণত করতে পারিনা বিধায় আল্লাহের ভয়ে নিজেকে আড়াল করে ফেলেছি। আলহামদুলিল্লাহ এই পথ অনেক শান্তির।

 

0 মন্তব্য(গুলি)